মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

উপজেলার প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

 

হযরত ঘাসী দেওয়ান

তাঁর আসল নাম জানা যায়না। লোকে তাঁকে হযরতঘাসী দেওয়ান বলেই জানে।তাঁর আস্তানা ছিল সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকার তিসিখালীতে। তিনি ছিলেন হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর অদেখা মুরীদ বা অনুসারী। প্রতি বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দাহিয়ার বিলে ঘাসী দেওয়ানের দরগাহে ও রসবার্ষিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মরমী কবি আহসান আলী

আহসান আলী ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে নওগাঁ জেলার অন্তর্গত রাণীনগর উপজেলার লোহাচুড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণনাম আহসান আলী খন্দকার। আধ্যাত্ব সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে আহসান আলী সাধক পুরুষ বলে গণ্য হন। ৪৫বছর বয়সে তিনি গুরু-প্রদত্ত খেলাফত লাভকরেন। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি জেলার সিংড়া উপজেলাধীন বজরাহার গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। আহসান আলীর বহুসংখ্যক তত্ত্ব সংগীত রচনায় লালনশাহ্ এবং পাঞ্জুশাহ্ এর প্রভাব যথেষ্ট কার্য করছিল। তিনি ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

 

স্যারযদুনাথসরকার

১৮৭০ সালের ১০ডিসেম্বর সিংড়া উপজেলার ছাতারদীঘি ইউনিয়নের কড়চমাড়িয়া গ্রামে যদুনাথ সরকার জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৮৯১ সালে ইংরেজী সাহিত্য ও ইতিহাস বিষয়ে অনার্স নিয়েবিএ পাশ করেন। ১৮৯২ খ্রিটাব্দে তিনি ইংরেজীতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএ পাশ করেন। কলকাতার রিপন কলেজে অধ্যাপনা পদে চাকুরী জীবন শুরু করে ১৯৩০ সালে তিনি চাকুরী থেকে অবসর নেন। অবসরের পূর্বে ৫ বছর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে আসীন ছিলেন। বৃটিশ সরকার তাঁকে ১৯২৬ সালে সিআইই এবং ১৯২৯ সালে ‘নাইটগুড’  খোতাবে সম্মানিত করেন। ১৯৩৬ ও ১৯৪৪ সালেঢাকা ও পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকেডি. লিট উপাধি প্রদান করেন। ১৯৫৮ সালের ১৯ মেসোমবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

মাদারবখশ

১৯০৭ সালে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার স্থাপনদীঘি নামক গ্রামে মাদার বখশ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বলিউদ্দিন মন্ডল। ১৯২৮ সালে তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম,এ পাশ করেন এবং ১৯২৯ সালে তিনি বি,এল ডিগ্রীঅর্জন করেন। প্রথমে ২-৩ বছর শিক্ষকতা করবার পর ১৯৩৪ সালে তিনি রাজশাহী জজকোর্টে আইন ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তী জীবনে তিনি আইন ব্যবসায়ে প্রচুর খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেছিলেন। ওকালতি ছাড়া ও তিনি রাজনীতি ও সমাজসেবায় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান আইন সভার সদস্য হিসাবে জনগণের সেবা করতে সক্ষম হন। আইন সভার সদস্য থাকা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালে তিনি রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিতহন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাপ্নিক ওস্ রষ্টা। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে মাদারবখশ এর বিশেষ প্রচেষ্টায় তদানিন্তন সরকার ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ‘ রাজশাহী বিশ্ববিদালয় এ্যাক্ট’ পাশ করে এবং তার পর যথারীতি কার্যক্রম শুরু করে এবং তা বাস্তবায়িতহয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগ চালু হলে তিনি শিক্ষকরূপে যোগদান করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। স্বাধীনতার পরতাঁর নামানুসারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম মাদার বখশ রাখা হয়েছে। ১৯৬৭ সালের ২০ জানুয়ারী দূরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

 

এয়ার ভাইস মার্শাল খাদেমুল বাসার

খাদেমুল বাসার ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলাধীন ছাতারবাড়ীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাসমতুল্লাহশাহ্ এবং মাতার নাম মোছাঃ হাছিনাবেগম। খাদেমুল বাসার রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ১৯৫৩ সালে বিমান বাহিনীতে যোগদেন এবং বিমান বাহিনী  একাডেমী থেকে গ্রাজুয়েশান ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ক্যাডেট হিসাবে যোগদান করে ধীরে ধীরে পদোন্নতির মাধ্যমে ১৯৭০ সালে উইং কমান্ডার পদলাভ করেন। স্বাধীনতা লাভের পর তিনি ৩ বার পদোন্নতি লাভ করেন এবং ১৯৭৬ সালের মে মাসে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন এবং  ঐ মাসেই তাঁকে এয়ার ভাইস মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তাঁকে ‘‘বীরউত্তম’’  খেতাব প্রদান করা হয় । ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ ঢাকা বিমান বন্দরে এক বিমান দুর্ঘটনায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

 

মোঃ মকসুদুর রহমান

সিংড়া উপজেলার ছিলামপুর গ্রামে ১৯৫১ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রাবন্ধিক ও গবেষক। বর্তমানে তিনি রাজশাহীবিশ্ববিদ্যায়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তাঁররচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন, নাটোরের মহারাণী ভবানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানত ও বওনীতিমালা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ছবি